আবারো সবজি ছাড়া যশোর ছাড়ল কৃষিপণ্য স্পেশাল ট্রেন

কম খরচে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষিপণ্য পৌঁছে দিতে বিশেষ ট্রেন চালু করলেও তাতে প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছে না রেলওয়ে।

কম খরচে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষিপণ্য পৌঁছে দিতে বিশেষ ট্রেন চালু করলেও তাতে প্রত্যাশিত সাড়া পাচ্ছে না রেলওয়ে। ২২ অক্টোবর যাত্রার প্রথম দিনে কৃষিপণ্য ছাড়াই যশোর ছেড়ে যায় ট্রেনটি। দ্বিতীয় দফায় গতকালও সবজি ছাড়াই যশোর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে কৃষিপণ্য স্পেশাল ট্রেন। তবে প্রথম দিনে খুলনা থেকে কিছু সবজি পাওয়া গেলেও দ্বিতীয় দিনে কৃষিপণ্য ছাড়াই ট্রেনটি যশোরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে।

কম খরচ, নিরাপদ ও ঝামেলামুক্ত পরিবেশে ঢাকায় সবজি পাঠানোর সহজ পদ্ধতি হলেও চাষীরা বিশেষ এ ট্রেন ব্যবহার করছেন না। কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ বছর জুলাইয়ের শেষ থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে সবজি উৎপাদন কম হয়েছে। যেসব খেতে সবজি রয়েছে কৃষক সেখান থেকেই বিক্রি করে দিচ্ছেন। এছাড়া সবজি খেত থেকে স্টেশন পর্যন্ত পণ্য পরিবহনে বাড়তি খরচের কারণে কৃষক আগ্রহ হারিয়েছেন। অবশ্য সবজির উৎপাদন বাড়লে কৃষক ট্রেন ব্যবহার করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন রেল কর্মকর্তারা।

বিশেষ ট্রেনের পরিচালক শেখ কামরুজ্জামান বলেন, ‘ঠিক সময়ই আমরা খুলনা থেকে রওনা করেছি। তবে সেখান থেকে কোনো সবজি পাওয়া যায়নি। যশোর স্টেশন ত্যাগ করেছি সবজি ছাড়াই। কৃষক ট্রেনে কেন সবজি পাঠাচ্ছেন না, সে বিষয়ে আমি বলতে পারব না।’

সবজিচাষী ও ব্যাপারীরা বলছেন, যশোর থেকে ট্রেনে সবজি পাঠানো হচ্ছে, বিষয়টি তারা প্রথম দিকে জানতেন না। তবে আড়ত থেকে সবজি পাঠানোর জন্য তাদের কাছে ট্রাকই সুবিধাজনক। কৃষক তাদের উৎপাদিত পণ্য আড়তে দিয়ে যান। আর ট্রাক একদম আড়তের সামনে দাঁড়িয়ে লোড করতে পারে। এতে কৃষক ও ব্যাপারী দুই পক্ষের সুবিধা। আর রেলওয়ে স্টেশনে যাওয়া কষ্টকর, সেখানে পণ্য ওঠানামা করানো ঝামেলাযুক্ত কাজ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা (ইনচার্জ) সালাম তরফদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকের পক্ষে দুই-চার মণ সবজি ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করা অসম্ভব। উৎপাদন এলাকার বিভিন্ন স্থানে কালেকশন পয়েন্ট রয়েছে। সেখানে বিক্রি করাই তাদের জন্য সুবিধাজনক। আমি সবজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করেছি। তারা বলেছেন, মাঠ থেকে সবজি আড়তে, সেখান থেকে স্টেশনে এরপর ঢাকায়— সব মিলিয়ে শ্রমিকের মজুরি বেশি পড়ে যায়। তাছাড়া ব্যবসায়ীদের মার্কেট প্লেস হচ্ছে কারওয়ান বাজার, কিন্তু সেখানে কোনো স্টপেজ নেই। ঢাকার বিমানবন্দর, তেজগাঁও, কমলাপুর স্টেশনে ট্রেন থামবে। আবার সেখান থেকে পণ্যবোঝাই করে নিয়ে যাওয়া ভোগান্তির বিষয়। এসব কারণে ট্রেনে সবজি পরিবহনে তেমন একটা আগ্রহ নেই কৃষক ও ব্যবসায়ীদের।’

বিশেষ ট্রেনটি মঙ্গলবার খুলনা, বৃহস্পতিবার পঞ্চগড় ও শনিবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকায় কৃষিপণ্য নিয়ে যাতায়াত করবে। ট্রেনে প্রতি কেজি সবজি ও কৃষিপণ্য বহনে ১ টাকা ৮ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৪৭ পয়সা খরচ পড়বে। ট্রেনের মাধ্যমে প্রতিদিন ১২০ টন পণ্য পরিবহনের সুবিধা মিলবে।

আরও